মাহী বি. চৌধুরী
মাহী বি. চৌধুরী বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব। সাবেক রাষ্ট্রপতি খ্যাতিমান চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পুত্র। একটি রাজনৈতিক পরিবারের তৃতীয় পুরুষ মাহী বি. চৌধুরীর দাদা কফিল উদ্দীন চৌধুরী ৩৫ বছর নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। তার পিতা পাঁচবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। জাতীয়তাবাদী দলের প্রথম মহাসচিব, হয়েছেন মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। মাহী বি. চৌধুরী রাজনীতির পাশাপাশি মিডিয়ায়ও সমান সক্রিয়। ব্লু ব্যান্ড কল, প্রচলিত রাজনীতি, নতুন রাজনীতির নানা দিক, নেতৃত্ব, আগামীর বাংলাদেশ-এসব নিয়ে সম্প্রতি বারিধারায় তার দলীয় কার্যালয়ে সকালের খবর-এর সঙ্গে কথা হয় উদ্যমী এ রাজনীতিবিদের। সাক্ষাত্কার গ্রহণ করেছেন ফজলুর রহমান
সকালের খবর : এখন কী নিয়ে ব্যস্ত?
মাহী বি চৌধুরী : বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আমি। নতুন করে দল গোছানোর কাজ করছি। সাংগঠনিক অবস্থা মজবুত আর দলে গতি সঞ্চারের চেষ্টা চলছে। মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা-ক্ষোভ কাজ করছিল, তা দূর করার চেষ্টা চলছে। আমাদের দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে দেশের সাধারণ মানুষ একটা পরিবর্তনের কথা বলছিল। রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন। সে পরিবর্তনটা হয়নি। প্রচলিত রাজনীতি, ব্লেইম গেম, একে অপরকে দোষারোপ- এসব তো অনেক হল। মানুষ এখান থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। তবে কীভাবে এটা জানা নেই। ‘পরিবর্তন চাই’ এটা শুনতে খুব ভালো লাগে। ইট সাউন্ডস গুড। কিন্তু পরিবর্তনটা কে করবে, কীভাবে হবে তা সুনির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারে না।
বিষয়টা নিয়ে আমি ভাবতে শুরু করি। আর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি কেউ মন থেকে পরিবর্তন চাইলে তা সম্ভব।
সকালের খবর : এই ভাবনাটা জোরালো হল কখন থেকে?
মাহী : ভাবনাটা আগেও ছিল। তবে ২০১১ সালের শুরু থেকে প্রবল হল। ভাবলাম এভাবে তো চলতে পারে না। এ জাতির একটা ইতিহাস আছে, ঐতিহ্য আছে। আর আছে ২০ বছরের একটা চক্র।
১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯১। ইতিহাসের এই সময়ে যে প্রজন্ম যা চেয়েছে তারা তা অর্জন করেছে। ১৯৫২ সালের প্রজন্ম মাতৃভাষা আন্দোলন করে একটি জাতির জন্মের নেতৃত্ব দিয়েছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে তারা। আর ১৯৯১ সালে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরুর নেতৃত্ব দিয়েছে ওই প্রজন্ম।
মোটামুটি ২০ বছর পরপর ঘটেছে ঘটনাগুলো। সময়ের সেই উত্তালপর্বে, সেই প্রজন্ম তাদের ইতিহাস নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করেছে। এখন ২০১১। প্রশ্ন হচ্ছে এই প্রজন্মের কাজ কী? তারা কোন দায়িত্বটা পালন করবে?
সকালের খবর : আপনার এ ভাবনাটা কারও সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন, বিশেষ করে আপনার পিতার সঙ্গে?
মাহী : না, এখন পর্যন্ত করিনি। তবে ভেতরে ভেতরে কিছু একটা হচ্ছে, আমি কাজ করছি, মানুষের সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলছি-এটা বাবা জেনে গেছেন।
সকালের খবর : তাহলে বিকল্পধারা বাংলাদেশের রাজনীতির বাইরেও অন্য রাজনীতি হচ্ছে?
মাহী : আমরা আপাতত এ চিন্তা, কর্মসূচিটা প্রচলিত রাজনীতির বাইরে রাখতে চাই। কেননা প্রথম পর্যায়ে এ নিয়ে আমি যাদের সঙ্গে কথা বলেছি তারা সবাই বলেছেন যে তারা প্রচলিত রাজনীতিকে ঘৃণা করেন। এরা আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ প্রায় ভেতরের সাধারণ মানুষ, তরুণ। তারা পরিবর্তন চায়। কিন্তু পরিবর্তনটা আসবে কীভাবে তা জানা নেই তাদের।
সকালের খবর : ১১ জানুয়ারির (১/১১) সরকারও পরিবর্তনের কথা বলে ক্ষমতায় বসেছিল।
মাহী : তারাও পরিবর্তন চেয়েছিল। কিন্তু পরিবর্তনের সংজ্ঞা পায়নি।
তারা মাইনাস টু করতে চেয়েছিল। আমরা চাই মাইনাস ‘ফোর’। বিভক্তি, সংঘাত, দুর্নীতি আর রাজনীতি থেকে আবেগ দূরে রাখতে চাই।
আমরা কারও বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছি না। সংঘাতের রাজনীতির ধারা পাল্টাতে চাই। বিশ্বাস করি ইতিবাচক রাজনীতিতে। আর আমরা ‘না’কে ‘না’ বলতে চাই। একটা পর্যায়ে আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি ডাক হবে-হয় সমঝোতা না হয় অবসর। অনেক তো হল। এবার তরুণদের হাতে দায়িত্ব দিন।
সকারের খবর : তরুণরা কি সে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত?
মাহী : তরুণরা প্রস্তুত হচ্ছে এবং তা প্রচলিত রাজনীতি দিয়ে নয়, সত্যিকারের পরিবর্তনের লক্ষ্যে, বিকল্প রাজনীতি দিয়ে। এ চিন্তাটার প্রাথমিক পর্যায়ে আমি ২৪ জন তরুণ-তরুণীর সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে বসি। তাদের কেউ কোনোদিন রাজনীতি করেনি। তাদের একশ’ভাগই বলেছিল যে তারা প্রচলিত রাজনীতিকে ঘৃণা করে এবং এ নিয়ে হতাশ। তবে সবাই বলে তারা পরিবর্তন চায়। আমরা ওদের প্রশ্ন করেছিলাম পরিবর্তন কী, পরিবর্তন কেন হয়? একেকজন একেক রকম উত্তর দিয়েছিল। তারপর আমরা একটা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম-পরিবর্তনের একটা সংজ্ঞা দাঁড় করাতে হবে। ১৬ জনকে নিয়ে ১১ দিনব্যাপী মিটিং করা হল, প্রায় ৮০ ঘণ্টার মিটিং। ওই ১৬ জন-যারা জীবনে রাজনীতি করেনি। আমি বিষয়টা কো-অর্ডিনেট করলাম। অনেক সমস্যা বেরিয়ে এল। আমরা চিহ্নিত করলাম তার মধ্যে কমন সমস্যা কোনগুলো। তারপর আমরা সেগুলো একে একে সমাধানের পথ খুঁজতে থাকি।
সকালের খবর : নতুন রাজনীতির কথা বলছেন যার মধ্যে তরুণদের অংশগ্রহণই প্রধান। তরুণ প্রজন্মের জন্য ব্লু ব্যান্ড কলের বক্তব্যটা কী?
মাহী : পাঁচটি সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আছে। দেশপ্রেম প্রকাশের এখনই সময়। রাজনীতিকে ঘৃণা করো না। দেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হও। তুমি একা নও আর আমরাও পারি। আমি যাকেই জিজ্ঞেস করি সে-ই বলে সে দেশপ্রেমিক। কিন্তু তার প্রমাণ তো দিতে হবে। বিপদের মুখে, ছিনতাইকারীর চাকুর মুখে যে তরুণ তার প্রেমিকাকে ফেলে দৌড়ে পালায় সে তো প্রেমিক হতে পারে না। দেশকে যে বিপন্ন অবস্থায় ফেলে পালায় সে তো দেশপ্রেমিক হতে পারে না। তাই দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের পূর্ব প্রজন্ম তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। আমাদেরও করতে হবে। না হলে ইতিহাসে আমাদের মূল্যায়ন হবে কীভাবে।
সকালের খবর : কেমন সাড়া পাচ্ছেন তরুণদের কাছ থেকে?
মাহী : চমত্কার। কোনো প্রচার নেই। প্রচারণা নেই। ফোন, ই-মেইল আর ফেইসবুকের মাধ্যমে কাজটা চলছে। তাতেই ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি আমরা। তরুণদের সঙ্গে কথা বলে আমরা যেটা বুঝতে পেরেছি প্রচলিত ধারার রাজনীতিতে সত্যিকারের যোগাযোগটা হচ্ছে না। সময় বদলে গেছে। তরুণরা কী চায় সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। পরিবর্তনের কথা বলে আমরা তরুণদের রায় নিয়েছি, কিন্তু তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক কাজ। আমরা দেখেছি যোগাযোগ কী পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এক ফেইসবুক যোগাযোগ মিসরে কত বড় পরিবর্তন ঘটিয়ে দিল।
সকালের খবর : ব্লু ব্যান্ড কল কি তেমন কিছু করতে চাচ্ছে?
মাহী : না আমাদের তেমন কোনো ইচ্ছা, পরিকল্পনা নেই। তবে এটা এখন অনেকের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমার অফিসে প্রতিদিন ছেলেমেয়েরা আসে। কথা বলে। গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের বিপুল উত্সাহ এরা এখানে কী করে। অনেককে তল্লাশি করে নিছক নির্দোষ অনেক কাগজপত্রও নিয়ে গেছে তারা। ব্লু ব্যান্ড কল সদস্যদের রাজনীতি করার কোনো ইচ্ছা নেই। তবে তারা রাজনীতিকে ঘৃণা করে না।
সকালের খবর : দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হলে ওই তরুণদের তো রাজনীতি করতেই হবে।
মাহী : তারা রাজনীতি করবে। তবে এটা প্রচলিত রাজনীতি নয়। এখন তারা নিজেরাই স্থির করছে কোন ধরনের রাজনীতি তারা করবে। তাদের সামনে সমস্যাগুলো কী তা চিহ্নিত করছে। সেই সমস্যা সমাধানের পথও তারা বের করছে। এক থেকে দুই, দুই থেকে চার-এভাবে দিনে দিনে বেড়েই চলেছে ব্লু ব্যান্ড কল। এখন মাত্র একদিনের নোটিসে কয়েকশ’ সদস্য একত্র হতে পারে। এটা একটা মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সকালের খবর : রাজনীতিতে দীক্ষা দিয়ে এই তরুণদের কি বিকল্পধারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার ইচ্ছা আছে আপনার?
মাহী : না, কখনই না। আমি বারবার বলছি এই তরুণরা প্রচলিত রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। সম্প্রতি প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতারা আমাদের সঙ্গে বৈঠক করতে এলেন। পত্রিকায় খবর এল আমি বিএনপিতে ফিরে যাচ্ছি। তখন প্রবল আপত্তি উঠল ব্লু ব্যান্ড কল সদস্যদের ভেতর থেকে। তারা এক রকম প্রতিরোধ গড়ে তুলল। আমি তাদের বোঝালাম প্রচলিত রাজনীতিতে আমি আস্থাশীল নই। আমি বিএনপিতে ফিরে যাচ্ছি না।
সকালের খবর : বিএনপির সঙ্গে বিকল্পধারা ও আপনার সম্পর্ক কেমন?
মাহী : ভালো।
সকালের খবর : আপনার পিতা এক সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বলা হয় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে’র ধারণাটাও আপনার পিতার?
মাহী : বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আমার বাবা এই আদর্শকে ধারণ করে এটা জনপ্রিয় করেছেন।
সকালের খবর : সেই বিএনপি কেবল আপনার বাবাই নন, একজন সাবেক রাষ্ট্রপতিকে প্রাকাশ্যে রাজপথে অপদস্থ করেছে….
মাহী : বিএনপি দ্বারা আমরা অপদস্থ হইনি। বিএনপি শহীদ জিয়ার গড়া দল। বিএনপির ভেতরের কিছু বিপথগামী ওই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমি মনে করি।
সকালের খবর : অনেকে তো অনেক কিছু হতে চায়, আপনি কী হতে চেয়েছিলেন?
মাহী : আমি রাজনীতিবিদ হতে চেয়েছি।
সকালের খবর : কতটা সফল হয়েছেন?
মাহী : মূল্যায়ন করিনি। চেষ্টা করছি।
সকালের খবর : আপনার পরিবারে সে ঐতিহ্য আছে।
মাহী : আমি আমার পরিবার, পারিবারিক ঐতিহ্য নিয়ে গর্ববোধ করি। অনেকে বলে আমি উত্তরাধিকারের রাজনীতি করছি। এটাই আমার জন্য স্বাভাবিক। আমার পরিবারের রাজনীতির ঐতিহ্য আছে। আমার দাদা ৩৫ বছর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন। আমার বাবা পাঁচবারের সংসদ সদস্য। আমি দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। আমাদের পরিবারের নামে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই। অনেকে এটাও বলে আমি সুযোগ পাইনি বলে দুর্নীতি করিনি। আমার বাবা রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তার আগে মন্ত্রী। বিএনপির মতো একটি বড় দলের সেক্রেটারি জেনারেল। সুযোগ কি কম ছিল। আমাদের প্রয়োজন হয়নি দুর্নীতি করার। আমরা বিষয়টাকে ঘৃণা করি। আমার বাবা রাজনীতির সঙ্গে মিডিয়ায় জড়িত ছিলেন, আমিও আছি।
সকালের খবর : বিএনপির এখনকার নেতৃত্ব নিয়ে কিছু বলুন।
মাহী : বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বে অনেক ভুল বোঝাবুঝি আছে। এসবের অবসান হওয়া উচিত। জিয়াউর রহমানের আদর্শে ফিরে যাওয়া উচিত বিএনপির।
সকালের খবর : মহাজোট সরকারের মূল্যায়ন করুন।
মাহী : এককথায় একে অদক্ষ সরকার বলা যায়। দক্ষতা বিচার করে মন্ত্রী বানানো হয়নি। কে কতটা ভালো দৌড়ান সে বিচারে মন্ত্রী করা হয়েছে। এটা হতে পারে? সরকারের মন্ত্রীরা জিয়াউর রহমানকে ‘রাজাকার’ বলেন। এটা দেশের কেউ বিশ্বাস করে না।
সকালের খবর : যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান?
মাহী : ‘সকল অপরাধীর বিচার চাই। সব রাজাকারের বিচার চাই। আমার দুলাভাই ছাড়া’-এই মানসিকতা পরিহার করতে হবে। সুচারুভাবে এবং স্বচ্ছভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা না গেলে এ সরকারের বিপদ হবে।
সকালের খবর : কেমন হওয়া উচিত একজন রাজনৈতিক নেতার সবকিছু?
মাহী : সততা, মেধা, দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা ও সাহস থাকতে হবে একজন রাজনীতিবিদের। আর আমাদের আদর্শের মূলভিত্তি হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ জতি-রাষ্ট্র গঠনের রাজনীতি। নাগরিকদের দেশ গঠনে সম্পৃক্ত করা। ক্ষমতা নয়, দায়িত্ববোধের রাজনীতিই হওয়া উচিত নেতার আদর্শ। আবেগ নয়, কর্মসূচিভিত্তিক রজনীতিই এখন কাম্য।
সকালের খবর : ব্লু ব্যান্ড কলের কর্মসূচি কেমন হবে?
মাহী : উত্সবমুখর, শান্তিপূর্ণ আর ব্যতিক্রমী, আবারও বলছি আমরা কারও বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছি না।
সকালের খবর
এমন আরও কিছু খবর:

মন্তব্য