দখলবাজের বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
মোজাম্মেল হোসেন সজল, মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকুল উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র বেহাত হওয়ার ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের দখলবাজের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। ২০১১ সালের ১৫ মার্চ “ভাগ্যকুল উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সম্পত্তি দখলের পায়তারা” শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত এ সংবাদে ভিত্তিতে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জায়গার দখলবাজ আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চ স্ব-প্রনোদিত হয়ে রুল জারি করে সংশ্লিষ্ট অপরাধে মামলার নেয়ার নির্দেশ দেন শ্রীনগর থানার ওসিকে। এছাড়া, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শ্রীনগর উপজেলার ইউএনও, শ্রীনগর থানার ওসি, শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও দখলবাজ আওয়ামীলীগ নেতা মনির হোসেন মিতুলের বিরুদ্ধে দু’সপ্তাহের রুল জারি করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে হাইকোর্ট ওই পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে স্ব-প্রনোদিত হয়ে জেলার শ্রীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাগ্যকুল উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির প্রাণ ফিরিয়ে দিতে এ পদক্ষেপ নিয়েছেন হাইকোর্টের ওই দু’বিচারপতি। ওই আওয়ামীলীগ নেতা সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষের কাছের লোক হিসাবে পরিচিত।
এদিকে, লীজ আনার অজুহাতে প্রভাবশালী ওই আওয়ামীলীগ নেতার মুঠোবন্দি হয়ে পড়েছে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ভাগ্যকুল উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ভরাট উৎসবের মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগ নেতার হাতে বেদখল হয়ে গেছে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৫৫ শতাংশ সম্পত্তি। চৌচালা টিনের ঘরটির সামনের বিশাল মাঠ জুড়ে ড্রেজারে বালু ভরাট করে ভাগ্যকুল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মনির হোসেন মিতুল স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি দখল করেছেন প্রকাশ্যেই। লীজ আনার অজুহাত স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এ সম্পত্তি মালিকানা দাবি করে আসছে এ আওয়ামীলীগ নেতা মনির হোসেন মিতুল।

জানা গেছে, ১৮৬৫ সালে ভাগ্যকুলের জমিদার হরেন্দ্রলাল রায় বাহাদুর ভাগ্যকুল-মান্দ্রা মৌজায় তার নিজস্ব সম্পত্তির ৪০ শতাংশ জমির উপর অসহায় দুঃস্থ মানুষের চিকিৎসা সেবায় ভাগ্যকুল চ্যারিটেবল ডিস্পেন্সারী নামে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। যা পরবর্তীতে ভাগ্যকুল ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র নামে সরকারী করন হয়। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, জমির কাগজপত্র অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে সি এস, এস এ এবং আর এস রের্কডের সবখানে সম্পত্তিটি ভাগ্যকুল চ্যারিটেবল ডিস্পেন্সারী নামে নথিভুক্ত রয়েছে। তারপরও কিভাবে একজন জমিদারের দেয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জায়গা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আওয়ামীলীগ নেতার নামে লীজ দেয়া হয়েছে-তা পুরোটাই রহস্যজনক বলে মনে করছেন সেখানকার বাসিন্দারা। তাদের প্রশ্ন- ভাগ্যকুলবাসী কি ন্যূনতম স্বাস্থ্য সেবা টুকু পাবে না। নাকি এ অধিকার নেই। ক্ষমতাসীনরা কি- এটাও গিলে খাবে।
০১৭৪০৯২২৫৯০
বাংলা ২৪ বিডি নিঊজ
দৈনিক আজকালের খবর
এমন আরও কিছু খবর:

মন্তব্য