কুয়েতে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আপন দুই ভাইসহ তিন বাংলাদেশীর ফাঁসি ঠেকানোর প্রচেষ্টায় অগ্রগতি

মোহাম্মদ সেলিম, মুন্সীগঞ্জ থেকে : কুয়েতে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আপন দুই ভাইসহ তিন বাংলাদেশীর ফাঁসি ঠেকানোর প্রচেষ্টা বৃহস্পতিবার অনেক দূর এগিয়েছে। দন্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের সদস্যর এবং সরকারের দু’জন উর্ধতন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর ইউএনও’র কক্ষে বৈঠক বসেন কুয়েতে খুন হওয়া মহিদুলের পরিবারে সাথে। এখানে মহিদুলের কন্যা এবং ভাই বোন উপস্থিত ছিলেন। কুয়েতে মহিদুলের (৪৫) খুনের ঘটনায় তিন বাংলাদেশীর ফাঁসির দন্ডাদেশ হয়।

কুয়েতের আইনানুযায়ী নিহতের পরিবার ক্ষমা করলেই কেবল দন্ড মওকুফ করা যায়। তাই মহিদুলের পরিবারের কাছে তিন সন্তানের জীবন রক্ষায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাগবাড়ি বিবন্ধী গ্রামে সহোদর ইকবাল ঢালী (২৫) ও হৃদয় ঢালী (২৩) এবং কুমিল্লার হোমনার রবিউলের পুত্র রমজানের পরিবার। সাথে ছিলেন মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ব্যারিস্টার গোলাম সারোয়ার ও মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নিজাম উদ্দিন এবং নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। পরে রক্তের মূল্য বাবদ ২১ লাখ টাকায় ক্ষমা করতে রাজি হয় মহিদুলের পরিবার। দন্ডপ্রাপ্ত দু’সহোদারের মামা নরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি প্র্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী সোমবার মহিদুলের পরিবার ক্ষমার কাগজাদিতে স্বাক্ষর করবেন। এর আগে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের যৌথ একাউন্টে এই টাকা জমা করতে হবে। নিহতের পরিবারের এই ক্ষমার কাগজ আইনজীবীর মাধ্যমে কুয়েতের সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানোর পরইে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত তিন বাংলাদেশীর প্রাণ রক্ষা পেতে পারেন। এব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ব্যারিস্টার গোলাম সারোয়ার বৈঠক শেষে রাত সোয়া ৯টায় জানান, পরিবারটির দাবী ছিল ৬০ লাখ টাকা। আলোচনার পর তারা ২১ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্ষমা করতে রাজি হয়েছেন। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন। আশা করা যাচ্ছে সকলের সহযোগিতায় সফল হবে।

চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইকবাল ঢালী ও হৃদয় ঢালীর বড় এবং মেঝ। তাদের মা সাহেরা খাতুন বৈঠক শেষে জানান, তার দু’সন্তানের প্রাণ রক্ষায় যাঁরা সহযোগিতা করছেন তাদের কাছে আমি চির ঋণী থাকলাম। তাদের বাবা নরু ঢালীও কৃতঞ্জতা জানান সরকারের কাছে ও মহিদুলের পরিবারের কাছে।

২০১০ সালে চাকরির সন্ধানে কুয়েত যায় তার এই দু’পুত্র। ২০১১ সালে মরহুম তাহের আলীর পুত্র মহিদুল কুয়েতে খুন হয়। এতে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে স্বামী হত্যার ঘটনায় কুয়েতের থানায় মামলা দায়ের করেন। এ হত্যাকান্ডে সেখানকার নিন্ম আদালত তিন বাংলাদেশীকে ফাঁসির আদেশ দেন।

এমন আরও কিছু খবর:

  1. মুন্সীগঞ্জে যুবকের খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানবন্ধন
  2. প্রতীকী ফাঁসি
  3. শিশু তৌকির হত্যা মুন্সীগঞ্জে ঘাতকদের ফাঁসি চান এলাকাবাসী
  4. মুন্সীগঞ্জে দীপ্তের ঘাতকদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন
  5. ফাঁসির দাবিতে আজ মানববন্ধন, বখাটে জেলহাজতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>